
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
নলডাঙ্গা উপজেলার তেঘরপাড়া মির্জাপুরদীঘা এলাকায় পূর্ব বিরোধের জেরে বাবা-ছেলেকে দেশীয় অস্ত্র রাদমা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে প্রতিপক্ষ।
এই ঘটনায় বাদি হয়ে আহত রাকিবের ছোট চাচা মহিদুল ইসলাম নলডাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজহারে সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার (১২ অক্টোবর) রাত ১১ টায় একই এলাকার ওয়ার্ড বিএনপি নেতা নুর হোসেন তার ছেলে, ভাতিজা, ভাই ও নাতনিকে নিয়ে একই এলাকার শফিকুল ইসলাম মন্টুর ছেলে রাকিব হোসেনকে তার নিজ বাড়ি থেকে গামছা দিয়ে চোখ বেঁধে নুর হোসেন তার বাড়িতে তুলে নিয়ে বেধরক হাতুরি পিটা করে জখম অবস্থায় ফেলে রাখে। তার বাবাকে ফোন করে বিষয়টি বললে আহত রাকিবের বাবা শফিকুল ইসলাম মন্টু ছুটে গেলে প্রতিপক্ষ তাকে দেশীয় অস্ত্র রামদা দিয়ে এলোপাতারী কুপিয়ে বাবা-ছেলেকে জখম করে। রাকিব ও তার বাবা ঘটনাস্থলে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে প্রতিপক্ষ থানায় পুলিশকে ফোন করে বলে তার বাসায় তার মেয়েকে অপহরন করতে রাকিব ও তার বাবাসহ দলবল নিয়ে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তেঘরপাড়া মিজাপুরদীঘা গ্রামের বিএনপি নেতা নুর হোসেন, যিনি ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তার নেতৃত্বে তার ছেলে কৌশিক, ভাতিজা সৈকত, নাতি শিপন, মির্জাপুরের মর্ডান মিলে রাকিবের ওপর এই হামলা চালায়।
এসময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও বেধড়ক মারপিট করায় রাকিব ও তার বাবা গুরুতর আহত হয়। এসময় পুলিশ ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজশাহী মেডিকেলে রেফাড করেন।
ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আহতের পরিবারের অভিযোগ, পূর্ব বিরোধের জেরেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মুঠো ফোনে অভিযুক্ত নুর হোসেন বলেন রাকিব ও তার বাবা দলবল নিয়ে আমার বাড়িতে হামলা করে আমার মেয়েকে উঠিয়ে নিতে চাইলে আমি বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে রাকিব ও তার বাবাকে নিয়ে জায়। মারপিটের কথা বললে নুর হোসেন বলেন মারপিটের ঘটনা ঘটেনি।
নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, খবর পেয়ে রাতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠালে রাকিব ও তার বাবাকে গুরুতর অবস্থা দেখে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় নাটোর সদর হাসপাতালে পাটানো হয়। এই ঘটনায় একটি এজহার দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
